ইরান-ইসরাইল সংঘাত তীব্র, ট্রাম্পের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে

মধ্যপ্রাচ্যে পঞ্চম দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা ও তীব্র সংঘর্ষ চলছে। ইরান থেকে লেবানন, ইসরাইল থেকে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—সারাদেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইসরাইল ইরানের রাষ্ট্রপতি ভবন ও নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদের সদস্যদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। সেই সঙ্গে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এ পর্যন্ত হামলায় নিহতের সংখ্যা আটশোর কাছাকাছি পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর থেকে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে মার্কিন-ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। তেহরানের উপর হামলা আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

লেবাননের রাজধানী বৈরুতেও বিমান ও স্থল অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে এ পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি লেবাননি নিহত হয়েছেন।

একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি অনুযায়ী সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, দূতাবাস ও তেল-গ্যাসক্ষেত্র উত্তেজনার মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি নাজুক হওয়ায় সৌদি আরব ও কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা করেছে। এছাড়া জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ১৫টি দেশে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার সময়সূচি নাকচ করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগের প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।

অন্যদিকে, ইরানের হামলার প্রতিবাদে দেশ-বিদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। পাকিস্তান, ভারত ও ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী জনজোয়ার দেখা গেছে। পাকিস্তানের করাচি ও ইসলামাবাদে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। ভারতের নয়াদিল্লি ও জম্মু-কাশ্মীরেও মার্কিনবিরোধী সমাবেশ হয়েছে। ফিলিপাইনের ম্যানিলায় মার্কিন দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভকারীরা পতাকা পোড়ানোর পাশাপাশি স্লোগান দিয়েছেন।

মার্কিন-ইসরাইলি হামলার কারণে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপর ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।