গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি-তে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ ও নৌসেনা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
ইইউ’র ২৭টি সদস্যরাষ্ট্র বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস-এ সংস্থাটির সদরদপ্তরে এ বিষয়ে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস সাংবাদিকদের বলেন, “এই উন্মুক্ত যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের কোনো আগ্রহ নেই এবং ইইউ’র কোনো সদস্যরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে যুক্ত হতে চায় না।”
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি-ও একই সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, বর্তমানে ইউরোপীয় নৌবাহিনীর বিভিন্ন মিশন বিশ্বের নানা সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দিচ্ছে এবং জলদস্যু দমনে কাজ করছে। এসব দায়িত্ব রেখে এখন হরমুজে নতুন করে বাহিনী পাঠানো সম্ভব নয়।
বৈঠকে উপস্থিত জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিশ মের্ৎস বলেন, “আমরা হরমুজ প্রণালিতে সেনা পাঠাতে চাই না। আমরা চাই এই সংকট রাজনৈতিকভাবে সমাধান হোক।”
আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে পরিবাহিত তেল ও তরল গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়। এ কারণে একে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ও বলা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ট্যাংকার জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটছে। ব্রিটেনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনে ১২টিরও বেশি ট্যাংকার জাহাজ ইরানি হামলার শিকার হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে গত ১৫ মার্চ মিত্র দেশগুলোর প্রতি নৌবাহিনী পাঠানোর আহ্বান জানান ট্রাম্প। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে, তারা সামরিক নয়—কূটনৈতিক সমাধানেই বেশি আগ্রহী।


