ইরানের সম্ভাব্য সব নেতাকে হত্যার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র-এর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের সম্ভাব্য সব নেতাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাতের অষ্টম দিনে শনিবার (৭ মার্চ) প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনায় তার আগ্রহ নেই।

তিনি বলেন, যুদ্ধ তখনই শেষ হতে পারে যখন তেহরানের কার্যকর কোনো সেনাবাহিনী বা নেতৃত্ব আর অবশিষ্ট থাকবে না। ট্রাম্পের ভাষায়, যদি ইরানের সম্ভাব্য সব নেতা নিহত হন এবং দেশটির সামরিক শক্তি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে আলোচনার প্রশ্নই আর থাকবে না।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ইরানের পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘোষণা দেন, ইরান কখনও আত্মসমর্পণ করবে না।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং দেশটির সেনাবাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত হন বলে জানা যায়।

এর জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে শুরু করে ইরান। কয়েকদিন ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এদিকে সিএনএন-কে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির পর ইরান নতুন করে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে পর্যালোচনা করছে।

ইতোমধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা চালানোর খবরও পাওয়া গেছে। এ পর্যায়ে প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবিও করেছে ইরান।