ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ হামলা এবং তার জবাবে ইরানের পাল্টা আঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত টানা দশম দিনে গড়িয়েছে। নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলায় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা ‘ট্রু প্রমিজ–ফোর’ অভিযানের ৩০তম ধাপ শুরু করেছে। এ অভিযানে মধ্যপাল্লার খোররামশাহর, হাইপারসনিক ফাত্তাহ এবং ব্যালিস্টিক খাইবার ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিস্ফোরকবাহী একাধিক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এই হামলার প্রভাবে হাইফা থেকে দিমোনা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির দাবি, বেশিরভাগ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে, তবে কিছু ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন এলাকায় পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে কুয়েত-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর আগে কুয়েতের আল-আদিরি বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছিল তেহরান।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত-ও। আবুধাবি-তে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে বাহরাইন-এ অবস্থিত ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম-এর বেপকো তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যায়। বাহরাইনের আমির হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির কারণে সৌদি আরব থেকে অপ্রয়োজনীয় মার্কিন দূতাবাস কর্মী ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে সৌদিতে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
এদিকে ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল জোট। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টানা হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১২ হাজারের বেশি। নিহতদের মধ্যে নারী ও চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন।
অন্যদিকে তেল আবিব দাবি করেছে, তারা ইরানের বিপ্লবী গার্ডের বিমান বাহিনীর একটি সদর দপ্তর ধ্বংস করেছে। একই সময়ে লেবানন-এও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। সাম্প্রতিক হামলায় সেখানে কয়েকশ মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অভিযোগ করেছে, এই অভিযানে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ সাদা ফসফরাস ব্যবহারের ঘটনাও ঘটতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


