আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার কারণেই বিগত ১৬ বছর দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেশ আর দেখতে চায় না। জুলাই জাতীয় সনদ যেহেতু গণভোটে পাস হয়েছে, তাই তা অবিলম্বে কার্যকর করা উচিত।
সোমবার (২ মার্চ) রাতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, বিগত ১৬ বছরের স্বৈরশাসন দেশের রাজনীতি, সংসদীয় ব্যবস্থা, গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের আন্দোলনে সেই শাসনের অবসান ঘটে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি অগ্রাধিকার ছিল—সংস্কার, ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার এবং একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন। সংস্কারের অংশ হিসেবে জাতীয় সংস্কার কমিশন গঠন করা হয় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়। পরবর্তীতে ঐকমত্য কমিশনে প্রায় ৩৩টি দল দীর্ঘ আলোচনা শেষে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করে।
জুবায়ের বলেন, জুলাই সনদের আইনিভিত্তি নিশ্চিত করতে গণভোট আয়োজনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সংস্কার প্রস্তাব পাস হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদের শপথের দিন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী দ্বৈত শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা তা গ্রহণ করেননি। তবে ১১ দলীয় জোটের এমপিরা শপথ গ্রহণ করেছেন বলে জানান তিনি।
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে, যার শুনানি শেষ হয়েছে এবং মঙ্গলবার রায় ঘোষণা হতে পারে।
জাতির উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণভোটে পাস হওয়া একটি জাতীয় বিষয়কে আদালতের ওপর নির্ভর না করে জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত। সংসদের পরবর্তী অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অতীতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টায় সংকট ঘনীভূত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তির ঘটনাই তার উদাহরণ।
তিনি বলেন, “এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা আর দেখতে চাই না। জুলাই জাতীয় সনদ যেহেতু গণভোটে পাস হয়েছে, তাই আমরা অবিলম্বে এটি কার্যকর দেখতে চাই।”
এক প্রশ্নের জবাবে জুবায়ের বলেন, আদালতের রায়ের আগে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব নয়। মঙ্গলবার রায় ঘোষণার পর দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব ও সংসদীয় দলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।


