রমজান মাস হলো ইবাদত, ত্যাগ এবং আত্মশুদ্ধির মাস। এই মাসে আল্লাহ বান্দার আমল ও ইবাদতের প্রতিদান বৃদ্ধি করেন। মুসলিমরা বছরের অন্য সময়ে যে ইবাদত করে, তার চেয়ে রমজানে বেশি সময়, চেষ্টা ও মনোযোগ দিয়ে ইবাদত করার চেষ্টা করে।
১. রোজার বিশেষতা
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“আদম সন্তানের প্রতিটি কাজের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বর্ধিত হয়। তবে রোজা ছাড়া। কেননা রোজা শুধু আমার জন্য এবং আমি তার পুরস্কার দেবো।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৮২৩)
২. মুত্তাকিদের ইবাদত গ্রহণযোগ্য হয়
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের (ইবাদতই) গ্রহণ করেন।”
(সুরা মায়িদা, আয়াত: ২৭)
সাহাবায়ে কেরাম (রা.) সর্বদা ভয়ে থাকতেন যে, তাদের আমল আল্লাহর কাছে কবুল হয়েছে কিনা। যেমন, ফাজালাহ ইবনে উবায়েদ (রা.) বলেন, যদি জানতাম আমার এক অণু আমল কবুল হয়েছে, তবে তা পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে প্রিয় হতো।
৩. শিরকমুক্ত আমল
শিরকযুক্ত বা কারো সঙ্গে আল্লাহকে অংশীদার করা ইবাদত গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ বলেন:
“যে তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ প্রত্যাশা করে, সে যেন সৎকর্ম করে ও আল্লাহর ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।”
(সুরা কাহফ, আয়াত: ১১০)
ব্যাখ্যা: যে ইবাদত আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো প্রশংসা বা ফলাফল আশা ছাড়া করা হয়, সেটিই গ্রহণযোগ্য।
৪. লৌকিকতামুক্ত আমল
আল্লাহ লৌকিকতা বা মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য করা ইবাদত গ্রহণ করেন না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি সুনাম চায় আল্লাহ তাকে সুনাম দেন; যে লোক দেখাতে চায়, আল্লাহ তা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেন।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৮৬)
ব্যাখ্যা: গোপনে ভালো কাজ করা এবং শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা আমলই কবুল হয়।
৫. দোয়ার সঙ্গে আমল
যারা ইবাদত শেষে আল্লাহর কাছে কবুলের জন্য দোয়া করে, আল্লাহ তাদের আমল কবুল করেন। নবী-রাসুল (আ.) ও পূর্বসূরি আলেমরা আমল কবুলের জন্য দোয়া করতেন।
যেমন ইবরাহিম (আ.) দোয়া করেছেন:
“হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”
(সুরা বাকারা, আয়াত: ১২৭)


