সারাদিন ঘুমিয়ে কাটালে রোজা হবে?

পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে। এ মাসে ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ এই মাসেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল শুরু হয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সুরা আল-বাকারা: ১৮৩)।

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করা। তবে বর্তমানে অনেকের মধ্যে একটি প্রবণতা দেখা যায়—সেহরি খাওয়ার পর দিনের বড় একটি সময় ঘুমিয়ে কাটানো। ফলে প্রশ্ন ওঠে, সারাদিন ঘুমালে রোজা হবে কি না।

ইসলামে ঘুমকে মানুষের স্বাভাবিক প্রয়োজন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমি তোমাদের ঘুমকে করেছি বিশ্রাম।” (সুরা আন-নাবা: ৯)। অর্থাৎ ঘুম মানুষের জন্য আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত।

তবে রমজান মাস ইবাদতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও নফল ইবাদতে সময় ব্যয় করা উত্তম। তাই পুরো সময় ঘুমিয়ে কাটালে রোজার আধ্যাত্মিক সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও সহবাস থেকে বিরত থাকার নাম রোজা। সেহরি খেয়ে রোজার নিয়ত করে কেউ যদি দিনের বেশিরভাগ সময় ঘুমিয়ে কাটায়, তবুও তার রোজা হয়ে যাবে।

তবে নামাজ একটি স্বতন্ত্র ফরজ ইবাদত। রোজা রেখে অতিরিক্ত ঘুমের কারণে যদি নামাজ কাজা হয়ে যায় বা দায়িত্ব পালনে অবহেলা ঘটে, তাহলে তা গুনাহের কারণ হতে পারে। কারণ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ।

তাই রোজা রেখে ঘুমানো নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু অতিরিক্ত ঘুম যদি ইবাদত ও দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে তা ইসলামের দৃষ্টিতে অনুচিত বলে বিবেচিত হয়।